রাণীনগরে কর্মকর্তাদের অবহেলায় ভেস্তে গেছে প্রযুক্তি প্রদর্শনী প্রকল্প

রাণীনগরে কর্মকর্তাদের অবহেলায় ভেস্তে গেছে প্রযুক্তি প্রদর্শনী প্রকল্প

আবু ইউসুফ, নওগাঁ: নওগাঁর রাণীনগরে কৃষি কর্মকর্তাদের অবহেলা ও তদারকির অভাবে ভেস্তে গেছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘ক্লাস্টার এডব্লিউডি’ (পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো) প্রযুক্তি প্রদর্শনী। ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ ও ধানের ফলন বৃদ্ধির মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

‘পার্টনার’ (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চারটি ব্লকে মোট ৮ একর জমিতে এই প্রদর্শনী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী, প্রতি দুই একর জমিতে ১০ ইঞ্চির ৬টি পিভিসি পাইপ স্থাপন করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেচ দেওয়ার কথা। এর ফলে ৩৫-৫০ শতাংশ সেচ সাশ্রয় এবং রোগবালাইমুক্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রদর্শনীভুক্ত চার কৃষক—কামরুল ইসলাম, ওসমান আলী, বাবু সরদার ও আমিনুল ইসলামকে বীজ, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের মূল ভিত্তি ‘এডব্লিউডি পাইপ’ প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকরা পুরোপুরি অন্ধকারে। চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী জানান, তাকে পাইপ দেওয়া হলেও তা ব্যবহারের নিয়ম জানানো হয়নি। ফলে তিনি সনাতন পদ্ধতিতেই সেচ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, কৃষক বাবু সরদার, আমিনুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তারা সার-বীজ পেলেও কোনো পাইপ পাননি। এমনকি এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য কী, তাও তাদের বুঝিয়ে বলা হয়নি। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ব্লক সুপারভাইজার সানারুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী ও আফাজ উদ্দীন দায়সারা দাবি করেছেন যে, কৃষকরা ফোন দিলেও না আসায় পাইপগুলো তাদের কাছেই রয়ে গেছে। তবে কৃষকরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, ব্লক সুপারভাইজারদের অসহযোগিতার কারণে কৃষকরা সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মন্ডল জানান, "এখানে শুধু ব্লক সুপারভাইজার নয়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দায়িত্ব ছিল। প্রকল্পের এই বেহাল দশার কারণ সরেজমিনে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় সরকারের সেচ সাশ্রয়ী এই মহৎ উদ্যোগটি রাণীনগরে কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন