ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওর, পাগনা ও শনির হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা ভারী বর্ষণে বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার একর জমির কাঁচা ও আধা-পাকা ধান দীর্ঘ সময় ধরে নিমজ্জিত থাকায় চারায় পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলে ফসলহানির চরম উদ্বেগ ও হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিচু এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে তাদের সারাবছরের খোরাকি ও বিনিয়োগ করা অর্থের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের বেশ কিছু পয়েন্টে পানি জমে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো:
হালির হাওর: ছাতিধরা, স্লুইস গেট, নেতুয়ার কাড়া, নয়ন্না, বিশাইল্লা ও মাগুরা এলাকা।
পাগনা হাওর: ছাগাইয়া ভান্ডার এলাকা।
ভীমখালী এলাকা: কলকতখা, ভান্ডা, মল্লিকপুর, উগলি, কৃষ্টনগর, হারার কান্দি ও মাখর খলা দিগা।
ছনুয়ার হাওর: এই হাওরেরও বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ফসলরক্ষা বাঁধের কারণে অনেক জায়গায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অন্তত পাঁচ হাজার একর জমি জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে।
পানি নামানোর জন্য অনেক কৃষক নিজেদের উদ্যোগে সেচ পাম্প (পাওয়ার টিলার চালিত পাম্প) বসিয়ে দিন-রাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বৃষ্টির বেগ ও চারপাশের পানির চাপে তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। কৃষকরা জানান, “ধান ঘরে তোলার কথা ছিল কয়েকদিন পর, এখন সেই ধান পানির নিচ থেকে কেটে গরুকে খাওয়াতে হচ্ছে। আমরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।”
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, “উপজেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর (প্রায় ৫৬৮ একর) জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে দ্রুত পানি কমে যাবে এবং কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা প্রদান করা হোক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ