শ্রীপুরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যা

শ্রীপুরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যা

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আকরাম হোসেন (৪২) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদককারবারি চক্রের বিরুদ্ধে। গত শনিবার বরমী ইউনিয়নের ঢুলিপাড়া এলাকায় বর্বরোচিত এই হামলার শিকার হওয়ার তিন দিন পর সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আকরাম হোসেন ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরমী ইউনিয়নের ঢুলিপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মারজিনা নামে এক নারী ও তার সহযোগীরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। রাজমিস্ত্রি আকরাম হোসেন প্রায়ই তাদের এই অনৈতিক কাজে বাধা দিতেন এবং এলাকায় মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করতেন। গত শনিবার কয়েকজন মাদকসেবী মাদক কিনে যাওয়ার সময় আকরাম তাদের ধমক দিলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মারজিনা ও তার সহযোগী শুভসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকরামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদককারবারি শুভ লোহার রড দিয়ে আকরামের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

নিহতের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় আকরামকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে সোমবার বিকেলে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহতের মেয়ে নাজমিন আক্তার আহজারি করে বলেন, তার বাবাকে তিন দফায় পিটানো হয়েছে। প্রথম দফায় হামলার সময় ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও সময়মতো পুলিশ আসেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি তার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি দাবি করেছেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, মারধরের ঘটনায় আগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। পুলিশি অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। এলাকায় মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন