আমতলীতে বিএনপি কার্যালয় দখলের চেষ্টা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের

আমতলীতে বিএনপি কার্যালয় দখলের চেষ্টা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের

পিএম সাজ্জাদ শরীফ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে বিএনপি কার্যালয়ে ব্যানার টাঙিয়ে দখলের চেষ্টা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। সোমবার (২ মার্চ) সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত ইসফাক আহমেদ ত্বোহা, সবুজ উদ্দিন ম্যালাকার ও মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাতসহ চারজন এই দুঃসাহসিক চেষ্টা চালায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও বিস্ময় বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিএনপির একটি অংশ নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হতে শুরু করে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যে পৌর শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন খাঁনের নেতৃত্বে একবার অফিসটি দখলের চেষ্টা করা হয়। তখন পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সোমবার সকালে আবারও ইসফাক আহমেদ ত্বোহার নেতৃত্বে ব্যানার টাঙিয়ে অফিসটি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ তুহিন মৃধা অভিযোগ করেন, "পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বারবার বিএনপি অফিস দখলের সাহস পাচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।" এছাড়া গত ১৩ নভেম্বর রাতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির সামনে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ইসফাক আহমেদ ত্বোহা দম্ভোক্তি করে বলেন, "এটি মূলত আওয়ামী লীগের অফিস ছিল যা ৫ আগস্টের পর বিএনপি দখল করেছে। তাই আমরা ব্যানার টাঙিয়ে আমাদের অফিস পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছি।"

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এ বিষয়ে জানান, "ব্যানার টাঙিয়ে কার্যালয় দখলের চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন