টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কালাম তালুকদার (৬৫) নামে একজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় অন্তত ১০ থেকে ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে গরু-বাছুর, গোলার ধান এবং মূল্যবান গৃহস্থালি সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপালপুরের নলিন বাজারেও ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি দোকানে আকস্মিক হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে, যার ফলে তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, পূর্বের একটি সংঘর্ষের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎকুড়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে গোলপেচা গ্রামে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আহত হন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান জানান, দুই গ্রামের ভয়াবহ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত, জানমালের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ও অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন