আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইলের আঘাতে দখলদার ইসরায়েলের এক সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দক্ষিণ লেবাননে এই হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, এর আগে ওইদিনই লেবানন সরকার ও ইসরায়েল নতুন করে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছিল। কিন্তু হিজবুল্লাহ এই চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালায়।
নিহত ওই সেনা কর্মকর্তার নাম ক্যাপ্টেন ইতান স্যামুয়েল লেম্বার্গ (২১) বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ২১ বছর বয়সী ইতান ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সপ্তম সাঁজোয়া ব্রিগেডের ৭৫ নং ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে লিটানি নদীর উত্তর দিকে মোতায়েন করা ইসরায়েলি সেনাদের ট্যাংক লক্ষ্য করে আচমকা ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল ছোড়ে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। এতে ঘটনাস্থলেই ক্যাপ্টেন ইতান স্যামুয়েল লেম্বার্গের মৃত্যু হয়। এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ওই অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই নতুন চুক্তিতে লেবানন ও ইসরায়েল সম্মত হয়েছিল যে— যদি হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ করে তবেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে লেবাননের সরকারি সেনাদের মোতায়েন করার কথা ছিল এবং সেসব জায়গা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহকেও সীমান্ত অঞ্চল থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে হতো।
কিন্তু নতুন এই আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে হিজবুল্লাহ বলেছে, এই শর্ত মেনে নেওয়া মানে স্পষ্ট ‘আত্মসমর্পণের’ সামিল।
হিজবুল্লাহর বর্তমান প্রধান নাইম কাসেম সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল লেবাননের মাটিতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখবে, ততক্ষণ তারাও সমানতালে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবেন। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যেকোনো ধরনের আলোচনা থেকে পুরোপুরি সরে আসতে লেবানন সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।