খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক অর্জন নিয়ে জমিয়ত সভাপতির মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক অর্জন নিয়ে জমিয়ত সভাপতির মিশ্র প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়াকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে আন্তর্জাতিক এই বড় অর্জনকে ঘিরে তিনি কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন ও গভীর উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই নির্বাচন নিয়ে নিজের এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জমিয়ত সভাপতি।

ফেসবুক পোস্টে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অর্জন এবং বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। তবে জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা ও এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নানা বিতর্কের কারণে এই অর্জনকে খুব সরলভাবে উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্ব রাজনীতিতে জাতিসংঘের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জমিয়ত সভাপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চলমান সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পরাশক্তিগুলোর প্রভাবমুক্ত থেকে বিশ্ব সংস্থাটি আসলে কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে জাতিসংঘের শীর্ষ কোনো পদে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টিকে শুধু সম্মানের বা আলংকারিক অর্জন হিসেবে না দেখে, বরং বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা বেশি প্রয়োজন।

পোস্টে ড. খলিলুর রহমানের অতীত কর্মকাণ্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ড. খলিলুর রহমানের সম্পৃক্ততায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা নিয়ে দেশের সমাজের বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে তাঁর এই নির্বাচনকে ঘিরেও এখন নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক স্পষ্ট জানান, এই গুরুদায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করতে পারেন, দিনশেষে সেটিই হবে মূল বিবেচনার বিষয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, সীমান্ত ইস্যু, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালীকরণ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে তাঁর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়, তবেই এই অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। অন্যথায় কেবল এই আন্তর্জাতিক পদ লাভের বাস্তব সুফল নিয়ে জনসাধারণের মনে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

সবশেষে, বৈশ্বিক এই বড় মঞ্চ থেকে দেশের কল্যাণ, মর্যাদা ও সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যেন ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আসে, সেই কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি।

মন্তব্য করুন