মদনে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ণ
মদনে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মদনে সরকারি কাজে বাধা এবং দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর ও আহত করার অভিযোগে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা জেলা শাখা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা শামীমের অনুমোদনে এবং দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক সৈয়দ মিঠু মিয়াকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। একই সাথে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত সৈয়দ মিঠু মিয়া মদন পৌর সদরের ৫ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় চট্টগ্রামগামী বাসের কাউন্টারে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন খবর পেয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাত্রীরা প্রশাসনের কাছে তাঁদের হয়রানির অভিযোগ জানাচ্ছিলেন।

ওই সময় সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে একটু দূরে সরতে বললে তিনি পুলিশের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং সৈয়দ মিঠুর হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। সেখানে মিঠু নামের ওই যুবক আচমকা আঘাত করে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে।

ওসি আরও জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি কর্মচারীকে মারধর করে আহত করার সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর মিঠুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আজ তাঁকে নেত্রকোনা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন