আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সারাদেশ’ ও ‘আকস্মিক দুর্ঘটনা, নৌপথ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর বাস দুর্ঘটনার সর্বশেষ আপডেট ও প্রশাসনের বক্তব্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের অত্যন্ত ব্যস্ততম ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিক স্বস্তির খবর হলো, অলৌকিকভাবে বা চালকের বুদ্ধিমত্তায় এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী নিখোঁজ বা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (BIWTC) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (AGM) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’ (SB Paribahan)-এর একটি যাত্রীবাহী নৈশকোচ বা ডে-কোচ দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের ওপর দিয়ে ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিল। ঠিক ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে বাসটি আকস্মিকভাবে ব্রেক ফেল করে বা চাকা পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুন থেকে ছিটকে তীব্র বেগে পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আরও যোগ করেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ম অনুযায়ী বাস থেকে অধিকাংশ যাত্রী ইতোমধ্যে নামানো অবস্থায় ছিল বলে আমাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে। ফলে বাসের ভেতরে কোনো যাত্রী আটকা পড়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের তল্লাশির অপেক্ষা করা হচ্ছে।”
ঘটনা জানার পর রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক (DC) আফরোজা পারভীন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার দুঃখজনক ঘটনাটি আমি সরকারি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে অবহিত হয়েছি। ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলকে ক্রেনসহ সেখানে পাঠানো হয়েছে। আমি নিজে সার্বিক উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে এবং পরিস্থিতির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করতে সরাসরি ঘটনাস্থলে রওয়ানা হয়েছি।”
উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ত্রুটি ও বাস নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ২৫ মার্চ এই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেরই ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর নদীতে পড়ে সম্পূর্ণ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার যৌথ উদ্ধার অভিযানে ওই বাসটি থেকে নারী ও শিশুসহ মোট ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মাত্র আড়াই মাসের মাথায় আবারও একই ধরনের দুর্ঘটনা পন্টুনের ফিটনেস ও হাইওয়ে পুলিশের নিরাপত্তা তদারকিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ঘাটে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ও শত শত উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
জান্নাত সকালবেলা