আজ শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিশ্ব সংবাদ’ ও ‘আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, পণ্য বাজার পর্যবেক্ষণ ও জুয়েলারি ব্যবসা প্রবৃদ্ধি সেল’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর এই বৈশ্বিক ও দেশীয় দরপতনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
আজ শুক্রবার বিশ্ববাজারের সর্বশেষ লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের মূল্যবান ধাতুর গ্রাফ নিচের দিকে নেমে গেছে। এই দরপতনের মূল কারণ হিসেবে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের (Reuters) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্পট স্বর্ণের মূল্য এক ধাক্কায় ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) ৪,৪NT.২০ ডলারে নেমে এসেছে। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের মোট দরপতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। পাশাপাশি আগামী আগস্ট মাসে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার মার্কেট সাড়াজাগানো ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৪৭৮.৫০ ডলারে থিতু হয়েছে।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, ইরান ইস্যুর চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে সাময়িকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সাথে বাজারে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও কঠোর হওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা সুদবিহীন এই মূল্যবান ধাতুটির ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের হিসাব মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫১ শতাংশ। এই কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নন-ফার্ম পেরোলস’ (NFP) বা কর্মসংস্থানের তথ্যের দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে সমানতালে। রুপার দাম ১.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৭২.৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের মূল্য ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৮৭৮.৬৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৮.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারের এই মন্দাভাব এবং স্থানীয় বাজারে অলংকার তৈরির কাঁচামাল অর্থাৎ তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ বৃদ্ধি ও মূল্য হ্রাসের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) দেশের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় সুখবর এনেছে। পবিত্র ঈদুল আজহার পরপরই বাজুস এক ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই সারাদেশে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্যের ক্যারেট অনুযায়ী এক নজরের তালিকা
স্বর্ণের ক্যারেট ও মান: ২২ ক্যারেট (হলমার্ককৃত) ভরি প্রতি বর্তমান মূল্য (টাকায়): ২,৩৪,৮৫৫ টাকা পূর্বে ভরিতে হ্রাসকৃত পরিমাণ (টাকায়): ৩,২৬৬ টাকা হ্রাস
স্বর্ণের ক্যারেট ও মান: ২১ ক্যারেট (হলমার্ককৃত) ভরি প্রতি বর্তমান মূল্য (টাকায়): ২,২৪,১৮২ টাকা পূর্বে ভরিতে হ্রাসকৃত পরিমাণ (টাকায়): ৩,১২০ টাকা হ্রাস
স্বর্ণের ক্যারেট ও মান: ১৮ ক্যারেট (হলমার্ককৃত) ভরি প্রতি বর্তমান মূল্য (টাকায়): ১,৯২,১৬৪ টাকা পূর্বে ভরিতে হ্রাসকৃত পরিমাণ (টাকায়): ২,৬৮ো টাকা হ্রাস
স্বর্ণের ক্যারেট ও মান: সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ভরি প্রতি বর্তমান মূল্য (টাকায়): ১,৫৬,৪৭৩ টাকা পূর্বে ভরিতে হ্রাসকৃত পরিমাণ (টাকায়): ২,১৮০ টাকা হ্রাস
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সঠিক বাজারমূল্য নিশ্চিত করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিয়ের মরশুম ও ঈদের পর দাম কমায় সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে বলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন।
জান্নাত সকালবেলা