রোববার তিন দিনের সফরে রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
রোববার তিন দিনের সফরে রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম ঐতিহাসিক অধিবেশনের সম্মানিত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে আগামী রোববার (৭ জুন) রাশিয়ার রাজধানী মস্কো যাচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিন দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি ও বাণিজ্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (৫Runnable ৫ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বহুপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক শাসন কাঠামো’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মেগা মস্কো সফরের বিস্তারিত খতিয়ান ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হলো।

এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MID) এক বিশেষ সরকারি বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের তিন দিনের মস্কো সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সফরকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতের বিশেষ সহযোগিতা এবং সমসাময়িক আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মস্কো থেকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, সফরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ আগামী সোমবার (৮ জুন) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী ও প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক বিশেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া রুশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও তাঁর পৃথক সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান সঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত থাকবেন।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ (Rooppur Nuclear Power Plant) এই মুহূর্তে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পার্টনারশিপ ও বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা রয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। একই সাথে, ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ট্রানজেকশন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হতে পারে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জাতিসংঘ সংস্কার এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও টেবিলে আসবে। সম্প্রতি খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বৈশ্বিক দক্ষিণ (Global South) এবং পূর্বদেশীয় দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাশিয়ার বিশেষ ভূরাজনৈতিক আগ্রহ রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে বিশাল জয়লাভের পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় তাঁকে একজন অত্যন্ত দক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ, দূরদর্শী ও বাস্তববাদী কূটনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অধিকার রক্ষা, এসডিজি অর্জনের গতি বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা জোরদারে খলিলুর রহমানের ঘোষিত অগ্রাধিকার ও নীতিমালাকে ক্রেমলিন জোরালো স্বাগত জানায়।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সাত বছর পর বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম একক ও দ্বিপক্ষীয় মস্কো সফর। এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালে দ্বিপক্ষীয় সফরে রাশিয়া গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঐতিহাসিক ঢাকা সফর করেছিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরটি বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রযাত্রার পাশাপাশি জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও ভূমিকা তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন