বৃষ্টির জন্য মহানবী সা এর দোয়া ও হাদিসের আমল

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির জন্য মহানবী সা এর দোয়া ও হাদিসের আমল
ইসলামী জীবন ডেস্ক : গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যখন আকাশজুড়ে মেঘের দেখা মেলে না, মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়, নদী-নালা ও জলাশয়গুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং সমগ্র জীবকূল ও মানুষ পানির জন্য অধীর আগ্রহে ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করে, তখন একজন প্রকৃত মুমিনের হৃদয় সর্বপ্রথম পরম বিনম্রতায় মুখাপেক্ষী হয় আসমান ও জমিনের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দিকে। কারণ পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃষ্টি হলো আল্লাহ তাআলার এক পরম ও অনন্য রহমত, যার মাধ্যমে মৃতপ্রায় ও শুষ্ক ভূমি পুনরায় নতুন জীবন লাভ করে এবং মানবজাতির জীবন-জীবিকা ও প্রকৃতির ভারসাম্য সচল থাকে।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ইসলামী জীবন’ ও ‘কুরআন-সুন্নাহর আলো, দৈনন্দিন আমল ও সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাধারা’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অনাবৃষ্টির সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ, আমল ও দোয়ার বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।

ঐতিহাসিক ও হাদিসের পাতা থেকে জানা যায়, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখনই আরবের বুকে কিংবা মদিনায় অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরা লক্ষ্য করতেন, তখন তিনি ঘরে বসে না থেকে আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত বিনম্রভাবে দুই হাত তুলে বৃষ্টির জন্য বিশেষ রোনাজারি ও দোয়া করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বৃষ্টির বিশেষ দোয়া

অনাবৃষ্টির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) যে বরকতময় দোয়াটি পাঠ করতেন, সেটি পবিত্র আররি ভাষায় নিচে দেওয়া হলো:

اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ

বাংলা উচ্চারণ:

‘আল্লাহুম্মাসকিনা গাইসান মুগিসান মারিআন মারিয়ান নাফিয়ান গাইরা দাররিন আজিলান গাইরা আজিলিন।’

বাংলা অর্থ:

“হে মহান আল্লাহ! আমাদের বিলম্বে নয় বরং অত্যন্ত তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত ও কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, চারপাশের প্রকৃতিতে সজীবতা দানকারী এবং মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো।”

প্রখ্যাত সাহাবি হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে এই দোয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি অত্যন্ত চমৎকার ও ঈমান উদ্দীপক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একদিন মদিনায় দীর্ঘমেয়াদী অনাবৃষ্টি ও তীব্র গরমের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে কিছু সাধারণ লোক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে কাঁদতে কাঁদতে উপস্থিত হন। তারা নবীজির কাছে পানির জন্য হাহাকার ও পশুপাখির কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন। প্রিয় নবী (সা.) তাদের এই ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহর রহমতের আশায় নিজের দুই হাত মোবারক তুলে তীব্র অনাবৃষ্টির অবসান ঘটাতে আল্লাহর দরবারে ওপরের এই দোয়াটি উচ্চস্বরে পাঠ করেন।

বর্ণনাকারী সাহাবি হযরত জাবির (রা.) আরও নিশ্চিত করে বলেন, নবীজি (সা.)-এর দোয়া শেষ হতে না হতেই অলৌকিকভাবে তাদের মাথার ওপর পুরো আকাশ ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই চারপাশ অন্ধকার করে মদিনার বুকে প্রচুর ও মুষলধারায় রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ১১৬৯)।

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, বৃষ্টির জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে সম্মিলিতভাবে খোলা ময়দানে জমা হয়ে নামাজ পড়া ও দোয়া করাকে ‘সালাতুল ইস্তিসকা’ বলা হয়। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, যখনই কোনো দেশে বা অঞ্চলে অনাবৃষ্টির কারণে খরা দেখা দেবে, তখন আল্লাহর দরবারে নিজেদের গুনাহের জন্য খাঁটি তওবা করে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এই দোয়ার মাধ্যমে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন