আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিশ্ব সংবাদ’ ও ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা কৌশল’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই রক্তক্ষয়ী হামলার সর্বশেষ আপডেট বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
লেবাননের সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের মহড়া বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী হামলাগুলো চালানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (NNA)-এর প্রকাশিত এক জরুরি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দোউয়ের (Doueir) শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আচমকা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। তীব্র বিস্ফোরণে ভবনটি আংশিক বিধ্বস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই অন্তত একজন লেবানিজ নাগরিক নিহত হন। এই হামলায় আরও অন্তত দুইজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এনএনএ তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, এই হামলাটি কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই সম্পূর্ণ আচমকা ও আকস্মিকভাবে সংঘটিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর (Hezbollah) মধ্যে সীমান্তজুড়ে চলমান রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই দোউয়ের অঞ্চলটি।
এদিকে গভীর রাতের ওই ভয়াবহ রেশ কাটতে না কাটতেই আজ শুক্রবার ভোরে পৃথক আরেকটি কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ (Habboush) প্রধান সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধাভিযানিক ড্রোন (Drone) নিখুঁত নিশানা করে গাইডেড মিসাইল হামলা চালায়। ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি মোটরসাইকেলের ঠিক পাশে বিস্ফোরিত হলে আরোহী তরুণ ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী জরুরি ক্লিনিকে নিয়ে যান।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলার ফ্রিকোয়েন্সি বা সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হিজবুল্লাহর সামরিক ঘাঁটি বা অবস্থান ধ্বংস করার নামে ইসরায়েলের এই নির্বিচার হামলার কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ ও নিরীহ বেসামরিক জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের ফলে সীমান্ত অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপদ শহরগুলোর দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে নতুন করে উদ্বাস্তুর সংখ্যা ও মানবিক সংকট জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
জান্নাত সকালবেলা