আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা, অস্থিতিশীলতা এবং যেকোনো মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কায় অঞ্চলটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি দেশে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ওইসব এলাকায় অবস্থানরত বা ভ্রমণপিপাসু নিজ দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কড়া পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টা ২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক’ ও ‘মধ্যপ্রাচ্য ভূরাজনীতি, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশল’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল ভ্রমণ সতর্কতার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের (US State Department) বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো আজ সকালে এই বিশেষ জরুরি নির্দেশনা ও রেড অ্যালার্ট জারি করে।
ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এই মুহূর্তে উচ্চমাত্রার সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর ফলে এখানকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছে এবং এটি যেকোনো মুহূর্তে খুব দ্রুত নেতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার এবং যেকোনো বৈশ্বিক ব্রেকিং নিউজের দিকে কড়া নজর রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।”
বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসন আরও সতর্ক করে বলেছে, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় মার্কিন স্থাপনা বা নাগরিকদের ওপর বৈরি পরিস্থিতি বা আকস্মিক সশস্ত্র হামলা হতে পারে। এমন জরুরি অবস্থায় সমস্ত মার্কিন নাগরিককে অতি দ্রুত তাদের নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ের (Safe House) অবস্থান চিনে বা জেনে রাখার জন্য অগ্রিম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের এই নতুন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশকে প্রধানত দুইটি ভিন্ন ও কঠোর ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে:
১. লেভেল-৩ (Level 3 - Reconsider Travel): এই তালিকায় রয়েছে বাহরাইন, ইসরাইল, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই ৯টি দেশে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের সিদ্ধান্তটি পুনরায় গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এই স্তরে সরাসরি ভ্রমণে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে না।
২. লেভেল-৪ (Level 4 - Do Not Travel): এই অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা উপত্যকা এবং ইয়েমেন। চলমান ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ ও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই ৬টি এলাকা বা দেশে মার্কিন নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার জন্য চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা কার্যকর থাকার কথা বলা হলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার প্রচ্ছন্ন মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু আকস্মিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশেষ করে, গত বুধবার (৩ জুন) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Kuwait International Airport) এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই প্রাণঘাতী হামলায় বিমানবন্দরে কর্মরত এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ৬৮ জন সাধারণ যাত্রী গুরুতর আহত হন। কুয়েতের মতো নিরাপদ রাষ্ট্রে এই নজিরবিহীন ও আকস্মিক হামলার ঘটনার পর থেকেই মূলত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং এই জরুরি সতর্কতা জারির জোর তোড়জোড় শুরু করে হোয়াইট হাউস। এই ভ্রমণ সতর্কতা মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা