লাইফস্টাইল ডেস্ক : সুস্থ-সবল ও দীর্ঘায়ু জীবন পেতে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে খেজুরের ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে, দুধকে বলা হয় সুষম খাদ্য। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি পুষ্টিকর উপাদান যখন একসঙ্গে মিশিয়ে রাতে গ্রহণ করা হয়, তখন তা একটি অসাধারণ ‘সুপার ফুড’ বা পুষ্টিকর খাদ্য সংমিশ্রণে পরিণত হয়— যা মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে জাদুকরী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিন রাতে নিয়মিত গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে হাড়, মস্তিষ্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে যেসব অবিশ্বাস্য সুফল পাওয়া যায়, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল’ ও ‘স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান’ বিভাগের এক বিশেষ ফিচারে দুধ-খেজুরের এই অনন্য পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা আলোচনা করা হলো।
প্রাকৃতিক ফল খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা মানবদেহের হাড়ের ঘনত্ব (Bone Density) বাড়াতে সরাসরি সাহায্য করে। অন্যদিকে, তরল দুধ হলো ক্যালসিয়াম ও উন্নত প্রোটিনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস, যা সুস্থ হাড় ও মজবুত পেশি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই গরম দুধের সঙ্গে খেজুর মিশিয়ে খেলে হাড়ের গঠন আরও বেশি শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে বয়স বৃদ্ধির কারণে যাদের হাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে কিংবা যারা অস্টিওপোরোসিসের (Osteoporosis) মতো ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি মহৌষধ।
খেজুর ও গরম দুধের এই সংমিশ্রণটি পাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে দারুণ কার্যকর। খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ বা ফাইবার (Dietary Fiber) অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে, রাতে এক গ্লাস হালকা গরম দুধের প্রশান্তিদায়ক উপাদানগুলো পেটের ভেতরের অস্বস্তি, গ্যাস ও ফোলাভাব দূর করতে সহায়তা করে।
যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা (Insomnia) বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই মিশ্রণটি চমৎকার ঘরোয়া সমাধান হতে পারে। দুধে রয়েছে ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মানবশরীরে প্রবেশ করে হরমোন নিঃসরণে (সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন) সাহায্য করে। এই হরমোনগুলো মূলত মানুষের ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। খেজুরেও সমপরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকায় এই দুটি একসাথে খেলে ঘুমানোর মান (Sleep Quality) অনেক উন্নত হয় এবং মন শান্ত থাকে।
খেজুর এবং দুধ উভয় খাদ্য উপাদানই ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এই পুষ্টি উপাদানগুলো মস্তিষ্কের স্নায়ু সচল রাখে, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়কের ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, বয়সজনিত কারণে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অবক্ষয়জনিত রোগ, বিশেষ করে আলঝেইমারসের (Alzheimer's) মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি দারুণ ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্লান্তিহীন শক্তি পাওয়া যায়। খেজুর শরীরের তাপমাত্রা সঠিক রাখতে ও তাত্ক্ষণিক ক্যালরি সরবরাহ করতে সাহায্য করে, আর দুধের উচ্চ প্রোটিন উপাদান শরীরে তাপ উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। ফলে এই প্রাকৃতিক খাদ্য সংমিশ্রণটি দেহের সার্বিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়াতে এবং ঋতু পরিবর্তনের বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতা ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষা দিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের রাতের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে খেজুর ও গরম দুধ যুক্ত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
জান্নাত সকালবেলা