‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে দর্শকের ভালোবাসায় মুগ্ধ বিদ্যা সিনহা মিম

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
‘মালিক’ সিনেমা নিয়ে দর্শকের ভালোবাসায় মুগ্ধ বিদ্যা সিনহা মিম

অনলাইন ডেস্ক : ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয়তার গণ্ডি পেরিয়ে ওপার বাংলাতেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম দীর্ঘ দুই বছরের এক দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও রূপালী পর্দায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেছেন। এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাওয়া সাইফ চন্দন পরিচালিত বহুল আলোচিত অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘মালিক’–এ প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই হলগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এবং ইতিবাচক সাড়ার বিপরীতে নিজের দীর্ঘ বিরতি ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘শোবিজ’ ও ‘ঢালিউড গ্ল্যামার ডায়েরি’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিদ্যা সিনহা মিমের বড়পর্দায় ফেরার রোমাঞ্চ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ঈদের ব্যস্ততার মাঝে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, “সিনেমার এই দুই বছরের বিরতি আমার ব্যক্তিগত জীবনের কাছে অনেক দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক সময় মনে হয়েছে। এই পুরোটা সময় জুড়ে আমার প্রিয় ভক্ত ও দর্শকরা বারবার জানতে চেয়েছেন— বড়পর্দায় আমার নতুন সিনেমা কবে আসবে। একজন শিল্পী হিসেবে আমিও তাদের জন্য দ্রুত ভালো কাজ নিয়ে ফিরতে চেয়েছি, কিন্তু নানাবিধ ব্যাটে-বলে না মেলার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তাই এবার ঈদে ‘মালিক’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে ফিরতে পেরে আমার দারুণ লাগছে। হলগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভালোবাসা আর আগ্রহের জোয়ার দেখে মনে হচ্ছে— আমার এই দুই বছরের দীর্ঘ অপেক্ষাটা সত্যিই সার্থক হয়েছে।”

দীর্ঘদিন নতুন কোনো চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ার পেছনের মূল রহস্য উন্মোচন করে মিম স্পষ্ট জানান যে, তাঁর কাছে কাজের বা বড় বড় প্রজেক্টের প্রস্তাবের কোনো অভাব ছিল না। তবে সস্তা গল্পের জোয়ারে গা না ভাসিয়ে চিত্রনাট্য, নিজের চরিত্র এবং পুরো প্রজেক্টের মান বিবেচনা করেই তিনি একটু সময় নিয়েছেন। সাবলীল কণ্ঠে মিম বলেন, “আমি মনে করি, শুধু বড়পর্দায় নিজের নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখার জন্য যেকোনো কাজ করা একজন সুঅভিনেত্রীর উচিত নয়। বরং এমন কিছু বেছে নেওয়া উচিত, যা সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পরও দীর্ঘদিন দর্শকের মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকবে।”

‘মালিক’ চলচ্চিত্রে নিজের কাজ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি বিগ বাজেট প্রজেক্ট ছিল। সিনেমার মূল গল্প এবং দুর্ধর্ষ অ্যাকশনধর্মী উপস্থাপনশৈলী তাঁকে প্রথম দেখাতেই আকৃষ্ট করেছিল। পাশাপাশি পর্দায় ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক আরিফিন শুভর শক্তিশালী উপস্থিতি তাঁর কাজের আগ্রহকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চলচ্চিত্রে নিজের রূপদান করা ‘মায়া’ চরিত্রটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত মিম বলেন, “দর্শক আমাকে এই সিনেমায় সম্পূর্ণ আলাদা দুটি রূপে আবিষ্কার করতে পারবেন। মায়ার চরিত্রের এক পিঠে সে ভীষণ চঞ্চল, মিষ্টি ও প্রাণবন্ত এক মেয়ে; অন্যদিকে গল্পের বাঁকে তার ভেতরে এক ভিন্ন ও গম্ভীর রূপ প্রকাশ পায়। চরিত্রটির এই বহুমাত্রিক স্তরগুলোই আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে ক্যামেরার সামনে সেরা পারফর্ম করার বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।”

নিজের করা চরিত্রটিকে রেটিং বা মূল্যায়ন করতে গিয়ে হেসে মিম বলেন, “আমি নিজের অভিনয়ের জায়গা থেকে ‘মায়া’ চরিত্রটিকে অবশ্যই দশে দশ দেব। তবে আসল নম্বরের স্বীকৃতি বা রায় তো দেবেন আমার হলের প্রিয় দর্শকরা। চরিত্রটি যদি সিনেমা হলে গিয়ে দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারে, তবেই সেটি হবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান সুবাতাস ও অগ্রযাত্রা নিয়ে দারুণ আশাবাদী এই তারকা। তিনি মনে করেন, দর্শকরা এখন নিজেদের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ভুলে দলবেঁধে হলে গিয়ে নিয়মিত বাংলা সিনেমা দেখছেন, মৌলিক ও ভিন্ন ধাঁচের নতুন গল্পগুলোকে সানন্দে গ্রহণ করছেন এবং ভালো কনটেন্টকে সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন দিচ্ছেন— যা সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সোনালী সংকেত। সংখ্যার চেয়ে কাজের গুণগত মানকে আজীবন গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মিম দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এতদিনের বিরতির পরও দর্শকেরা তাঁকে যে নিঃশর্ত ভালোবাসা দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। তিনি সবাইকে এই ঈদের ছুটিতে সপরিবারে হলে গিয়ে ‘মালিক’ সিনেমাটি দেখার আকুল আহ্বান জানান।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন