আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও বিনোদন দুর্ঘটনা’ বিভাগের এক বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদনে দিল্লির এই মডেলের মৃত্যুর নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’–এর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৮ মে কেরালার এরনাকুলাম জেলার মুদাকুঝা এলাকার একটি গভীর ও পানিভর্তি পরিত্যক্ত পাথরখনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দিব্যাংশু জোশি ভারতের জনপ্রিয় প্রিমিয়াম পোশাক ব্র্যান্ড ‘কার্তিক রিসার্চ’–এর দিল্লির ফ্ল্যাগশিপ শোরুমের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্র্যান্ডটির একটি বিশেষ মৌসুমি প্রচারণার মূল ফটোশুটে মডেল হিসেবে অংশ নিতে দিল্লি থেকে কেরালায় গিয়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, যে খনিতে শুটিং করা হচ্ছিল সেটি গত প্রায় দুই দশক ধরে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। গভীর এই খনিতে যে কোনো সময় ধস বা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। তবে এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ করা হলেও একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে।
স্থানীয় কেরালা পুলিশ জানিয়েছে, ওই খনিতে বাণিজ্যিক বা ফ্যাশন ভিডিও শুটিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরণের পূর্বানুমতি (Administrative Permission) নেওয়া হয়নি। এমনকি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে ব্র্যান্ডের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও বড় ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খনির পাড়ে ভিডিও ধারণের সময় দিব্যাংশু হঠাৎ পা পিছলে খনির তীব্র গভীর অংশে পড়ে যান। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল এসে খনির প্রায় ৩০ ফুট গভীর পানি থেকে তাঁর নিথর মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়— তাদের প্রতিষ্ঠাতা কার্তিক কুমরা নিজে তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে নেমে দিব্যাংশুকে খোঁজার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারিন এএস এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দিব্যাংশু পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত ক্রু মেম্বারদের কেউই তাঁকে উদ্ধারের জন্য খনিতে ঝাঁপ দেওয়ার সাহস দেখায়নি।”
এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম তোপের মুখে পড়েছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘কার্তিক রিসার্চ’। নেটিজেন এবং ফ্যাশন সচেতনরা প্রশ্ন তুলেছেন— পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট বা নিরাপত্তা কর্মী ছাড়া কেন এমন একটি নিষিদ্ধ মৃত্যুফাঁদে তরুণদের নিয়ে ফটোশুটের আয়োজন করা হলো।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ৩১ মে ব্র্যান্ডটি তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে দিব্যাংশুকে তাদের ‘প্রিয় সহকর্মী, সৃজনশীল মন ও আপন বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে কেরালা পুলিশ এই মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে এর নেপথ্যে ব্র্যান্ডের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনি তদন্ত শুরু করেছে।
জান্নাত সকালবেলা