মোঃ মাইনুল হক, নীলফামারী প্রতিনিধি: টানা ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে অফিসে উপস্থিতির ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা পালনে চরম গাফিলতি দেখা গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। উপজেলার প্রায় সব কর্মকর্তাই ন্যূনতম আধা ঘণ্টা থেকে শুরু করে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে অফিসে আসেন।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থানকালে এই চিত্র দেখা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা সকাল ৯টার কিছু সময় পরে অফিস চত্বরে আসলেও অন্য কর্মকর্তারা আসেন আরও দেরিতে। এর মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী ৯টা ১০ মিনিটে, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ৯টা ১৫, খাদ্য কর্মকর্তা ৯টা ২০, কৃষি অফিসার ৯টা ২৫, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৯টা ৩০, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ৯টা ৩৭ এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আসেন সকাল ১০টা ১০ মিনিটে।
এছাড়া বেলা ১২টা পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ইকবাল মোক্তাদির, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মিজানুর রহমান, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং তথ্যকেন্দ্র কর্মকর্তার কাউকেই অফিসে দেখা যায়নি।
আইসিটি কর্মকর্তা আফিজার রহমান বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে অফিসে আসেন। অফিস টাইমে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সেটা আপনাদের জানাতে হবে কেন?” এর আগে সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে অফিসে আসা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “এতটুকু বিলম্ব কোনো বিষয় নয়। আর এ ব্যাপারে আপনাদের কৈফিয়ত দিতে হবে কেন?”
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুয়েল রানা সকাল সাড়ে ৯টায় উপস্থিত হলেও ২ বছর বয়সী নিজ ছেলেকে অফিসের টেবিলে বসিয়ে খেলা করছিলেন। অথচ পাশেই উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে তাঁর স্ত্রী শারমিন খানম কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এক নারী স্টাফকে ডেকে সন্তানকে দেখভালের দায়িত্ব দেন। এভাবে স্বামী-স্ত্রী মিলে শিশুকে অফিসে এনে অধস্তনদের দিয়ে দেখভাল করান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ উপস্থিত হলেও বেলা ১২টা পর্যন্ত সহকারী কর্মকর্তা খাদ্য পরিদর্শক ফাহমিদা খানম ও নাজমুন নাহার চৌধুরী অনুপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, উপজেলার অধিকাংশ কর্মকর্তা প্রায়ই বাইরে থাকার অজুহাতে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং অফিস ফাঁকি দেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালনে আমরা সদা সক্রিয়। ঈদ পরবর্তী যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে জনসেবা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় আমরা বদ্ধপরিকর। এরপরও আজ যাঁরা সময়মতো অফিসে আসেননি, তাঁদের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে, যাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
এআইএল/সকালবেলা