আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, শিল্পখাত এবং রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের একটি বিশাল আন্তর্জাতিক তহবিল গঠিত হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহায়তায় এই বিনিয়োগ তহবিলটি গঠিত হবে। খসড়া সমঝোতা স্মারকে উভয় পক্ষ সম্মত হলে প্রাথমিক ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন এই তহবিল নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কূটনীতিকের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই খসড়ায় দুই দেশের মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার অধীনে কোনো দেশই একে অপরের ওপর হামলা চালাবে না। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার আশা করা হচ্ছে। শর্তানুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে রাজি হবে এবং আলোচনা চলাকালীন তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। এছাড়া ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি সচল রাখার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বিনিময়ে মার্কিন তেল ও জ্বালানি সংস্থাগুলো যেন ইরানি যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই প্রস্তাবও রেখেছে তেহরান।
এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনাও খসড়াতে রাখা হয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, আলোচনা শুরুর আগেই এই অর্থ ছাড় করতে হবে। আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ ও নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে লঘুকরণ বা অন্য কোনো নিরাপদ দেশে স্থানান্তরের বিকল্প প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও, এটি যেন কোনোভাবেই রাশিয়া বা চীনে না পাঠানো হয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।