আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি’ এবং ‘লাইফস্টাইল টেক’ বিভাগের এক বিশেষ সচেতনতামূলক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ফ্রিজ ও এর দামি পার্টস কম্প্রেসার (Compressor) সুরক্ষিত রাখার নানাদিক বিস্তারিতভাবে তুলে করা হয়েছে।
আধুনিক নাগরিক জীবনে ফ্রিজ বর্তমানে প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারেরই একটি অত্যন্ত অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক যন্ত্র। প্রতিদিনের কাঁচা খাবার, রান্না করা অন্ন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য পচনশীল সামগ্রী দীর্ঘ সময় সতেজ ও জীবাণুমুক্ত সংরক্ষণে এটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই দেশের চলমান বাস্তবতায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এবং পুনরায় ফিরে আসার ঠিক অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রাহকের কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকাকালীন বা লোডশেডিং চলাকালে ফ্রিজের দরজা বারবার বা অযথা খোলা একদমই উচিত নয়। ফ্রিজের দরজা শক্তভাবে বন্ধ থাকলে ভেতরের সঞ্চিত ঠান্ডা তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় (প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা) পর্যন্ত খুব ভালোভাবে বজায় থাকে। এর ফলে ভেতরে থাকা খাবারও তুলনামূলকভাবে দীর্ঘক্ষণ নিরাপদ ও তাজা থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় পর বিদ্যুৎ ফিরে আসার সাথে সাথেই ফ্রিজ চালু না করে অন্তত কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রকৌশলীরা। কারণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার প্রাথমিক মুহূর্তগুলোতে লাইনের ভোল্টেজে তীব্র ওঠানামা (Voltage Fluctuation) হতে পারে, যা ফ্রিজের মূল চালিকাশক্তি কম্প্রেসারের কয়েলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি পুড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। সাধারণভাবে লাইন সচল হওয়ার পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে ফ্রিজ চালু করা সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
যেসব গ্রামীণ বা শহরতলি এলাকায় দিনে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা বা ট্রিপিং করে, সেখানে ফ্রিজের সুরক্ষায় একটি ভালো মানের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার (Voltage Stabilizer) বা আধুনিক ‘সার্জ প্রটেক্টর’ ব্যবহার করলে ফ্রিজ অতিরিক্ত নিরাপত্তা পেতে পারে। এতে করে হাই-ভোল্টেজের আকস্মিক ধাক্কা থেকে কম্প্রেসার ও ফ্রিজের ভেতরের অন্যান্য সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক মাদারবোর্ড ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ বারবার আসা-যাওয়ার সময় ফ্রিজের প্লাগ বারবার খোলা বা ঘন ঘন অন-অফ করা মোটেও উচিত নয়। এতে যন্ত্রের মোটর ও কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত ব্যাক-প্রেশার বা চাপ সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার পরই কেবল ফ্রিজ চালু করা বুদ্ধিমানের কাজ।
দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ফিরে এলে ফ্রিজের ডিজিটাল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা থার্মোস্ট্যাট ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে গরমের তীব্রতা বুঝে সেটিংস পুনরায় একটু সমন্বয় করে নেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত কাঁচা খাবারের বর্তমান অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কাঁচা মাছ, মাংস, তরল দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে কোনো ধরণের অস্বাভাবিক টক গন্ধ, রঙ পরিবর্তন বা ছত্রাকের উপস্থিতি দেখা গেলে স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সেগুলো রান্না না করে ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের শেষ কথা— লোডশেডিংয়ের পর সামান্য কিছু সচেতনতা—যেমন ভোল্টেজ স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা, ফ্রিজের দরজা অযথা বারবার না খোলা এবং ভালো মানের প্রটেকশন ডিভাইস ব্যবহার করা—আপনার শখের ফ্রিজের সামগ্রিক আয়ু যেমন বাড়াতে পারে, ঠিক তেমনি আপনার পকেটের বড় অঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেকানিক ব্যয় কমাতে দারুণ সহায়ক হতে পারে।
জান্নাত সকালবেলা