পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন দীপেন দেওয়ান

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন দীপেন দেওয়ান
জাতীয় ডেস্ক : বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন দীপেন দেওয়ান। আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁর লিখিত পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর এই পদত্যাগপত্রটি সদয় গ্রহণ করেছেন বলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘রাজনীতি’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সরকারের মন্ত্রিসভার এই বড় রদবদল এবং মন্ত্রীর পদত্যাগপত্রের মূল বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী এই প্রবীণ মন্ত্রী হঠাৎ কী কারণে পদত্যাগ করলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এবং সচিবালয়ে নানা মুখরোচক গুঞ্জন তৈরি হলেও, গণমাধ্যমের হাতে আসা তাঁর মূল পদত্যাগপত্রের কপি থেকে পদত্যাগের আসল, যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট কারণটি জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো সেই চিঠিতে দীপেন দেওয়ান অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিনম্র ভাষায় লেখেন, ‘আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি নানাবিধ জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। বর্তমানে আমার এই শারীরিক অসুস্থতা ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন এবং নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ দৃশ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে; যা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় কাজের ক্ষেত্রে কাম্য নয়।’

চিঠিতে তিনি আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী ও বহুমাত্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধির স্বার্থেই তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে থাকা দেশের স্বার্থে ঠিক হবে না, তাই বর্তমান পদ থেকে তাঁর অনতিবিলম্বে অব্যাহতি গ্রহণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। অতএব, উপযুক্ত ও যৌক্তিক কারণসমূহ বিবেচনা করে তাঁর এই পদত্যাগপত্রটি দ্রুত গ্রহণ করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়ানো কৃত্রিম ভীতি বা ‘জুজুর ভয়’ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক স্তরে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ও রূপরেখা ব্যক্ত করেছিলেন এই প্রবীণ নেতা; তবে শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার কাছে নতি স্বীকার করে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে হলো। তাঁর এই পদত্যাগের পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন