পুলিশের হামলায় ৫০ জন গুলিবিদ্ধের দাবি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক পরিষদের

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ণ
পুলিশের হামলায় ৫০ জন গুলিবিদ্ধের দাবি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে রাজধানীর মতিঝিলে মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের হামলায় শতাধিক আহত এবং অন্তত ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ। আজ সোমবার (১ জুন) সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যাংকের হাজারো গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন।

গ্রাহক পরিষদের অভিযোগ, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু হওয়ার পরপরই পুলিশ জলকামান, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে কর্মসূচিটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। সংগঠনটির দাবি, পুলিশের ছোঁড়া গুলিতেই অন্তত ৫০ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এরপর পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিলে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকের মূল চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করিয়ে সম্পূর্ণ ‘বিতর্কিত নিয়োগ’ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের মতামত ও স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষা করে ব্যাংকে ‘অবৈধ প্রভাব’ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংক বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে এবং সাধারণ গ্রাহকেরা নিজেদের টাকা উত্তোলনে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন।

এদিকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ ও ব্যাংক পরিচালনা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টতা এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’-এর ভূমিকা নিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গভীর প্রশ্ন তোলা হয়। গ্রাহক পরিষদের নেতারা অবিলম্বে এই নতুন বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করার এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান।

মন্তব্য করুন