ঈদের দিনে যুবক খুন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ঈদের দিনে যুবক খুন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জে ঈদের দিন গলায় ছুরিকাঘাতে শাকিল (২৩) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় তিনদিনের মাথায় এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. রাকিব (২৫) কে কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া রাকিব সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের গুপিরপাড়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। অন্যদিকে নিহত শাকিল একই ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

আজ সোমবার (১ জুন) সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৮ মে ঈদের দিন সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ছোনগাছা বাজারের চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলকে গলায় ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক টিম আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান শুরু করে।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সুদূর কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, মূলত পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এই খুন সংঘটিত হয়েছে। কিছুদিন আগে ছোনগাছা বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে নিহত শাকিল ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে আসামি রাকিবের তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে স্থানীয় একটি সেলুনে চুল কাটাকে কেন্দ্র করে শাকিলের সঙ্গে রাকিব এবং তাঁর সহযোগী সাব্বিরের পুনরায় বাকবিতণ্ডা হয়।

এসব ঘটনারই ধারাবাহিকতায় ও ক্ষোভের জেরে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছোনগাছা বাজার সংলগ্ন চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন