স্বাস্থ্য ডেস্ক: সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং কয়েকজনের মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এটি করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ায় না, তবে এর উচ্চ মৃত্যুঝুঁকি একে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার এই ভাইরাসের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
হান্টা ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক বা প্রাণীবাহিত ভাইরাস। এটি সাধারণত ইঁদুর বা এ-জাতীয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি কোনো একক ভাইরাস নয়, বরং একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি। ১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।
এই ভাইরাস মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মল থেকে ছড়ায়। বাতাসের মাধ্যমে ইঁদুরের বর্জ্য শুকিয়ে ধুলার সঙ্গে বাতাসে মিশে গেলে এবং সেই বাতাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। স্পর্শ বা কামড় আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় বা দূষিত কোনো খাবার খেলে এই রোগ হতে পারে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বিরল ক্ষেত্রে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামক ধরনটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
হান্টা ভাইরাসের প্রধান দুটি রূপ রয়েছে এইচপিএস (পালমোনারি সিনড্রোম) এতে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয় এবং ফুসফুসে পানি জমে যায়। এইচএফআরএস (হেমোরেজিক ফিভার) এতে কিডনি অকেজো হওয়া এবং রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি। কয়েক দিন পর তীব্র শ্বাসকষ্ট ও কাশি শুরু হয়। এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি (৩৮-৫০ শতাংশ)।
হান্টা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অক্সিজেন সাপোর্ট ও সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।
বাড়িঘর ও কর্মক্ষেত্র ইঁদুরমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। ইঁদুরের উপদ্রব আছে এমন জায়গা পরিষ্কারের সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা। খাবার সব সময় ঢেকে রাখা এবং শস্যদানা নিরাপদে সংরক্ষণ করা। অন্ধকার বা অব্যবহৃত ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় সরাসরি ঝাড়ু না দিয়ে ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা, যাতে ধুলা না ওড়ে। ইঁদুর মারার চেয়ে পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশি জোর দেওয়া, কারণ পরিষ্কার জায়গায় ইঁদুর থাকে না।