নফল তাওয়াফ করবেন যেভাবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ণ
নফল তাওয়াফ করবেন যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করা বা তাওয়াফ করা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আধ্যাত্মিক ইবাদত। হজ ও ওমরার মূল আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও মক্কায় অবস্থানকালে যেকোনো সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে তাওয়াফ করা হয়, তাকেই বলা হয় 'নফল তাওয়াফ'। এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হলেও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল।

নফল তাওয়াফ কী? ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং স্বেচ্ছায় সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে কাবা শরিফ সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে নফল তাওয়াফ বলে। এই ইবাদতের জন্য ইহরাম বাঁধার প্রয়োজন নেই এবং এটি যেকোনো সাধারণ পোশাকেই আদায় করা সম্ভব।

ওমরাহ ও নফল তাওয়াফের পার্থক্য  ইহরাম: ওমরাহর জন্য ইহরাম বাধ্যতামূলক, কিন্তু নফল তাওয়াফে এর প্রয়োজন নেই।  সাঈ: ওমরাহর পর সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দৌঁড়ানো (সাঈ) জরুরি হলেও নফল তাওয়াফে কোনো সাঈ নেই।  পোশাক: ওমরাহর তাওয়াফ নির্দিষ্ট পোশাকে করতে হয়, নফল তাওয়াফ যেকোনো পরিচ্ছন্ন পোশাকে করা যায়। বাধ্যবাধকতা: ওমরাহ একটি সুনির্দিষ্ট ইবাদত, আর নফল তাওয়াফ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

নিয়ত: মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাওয়াফের নিয়ত করতে হবে। অজু: তাওয়াফের জন্য অবশ্যই অজু থাকা বাধ্যতামূলক। শুরু ও শেষ: হাজরে আসওয়াদকে (কালো পাথর) সামনে রেখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে প্রদক্ষিণ শুরু করতে হবে। এভাবে সাতবার ঘুরলে একটি তাওয়াফ সম্পন্ন হয়। দোয়া-জিকির: প্রদক্ষিণকালে যেকোনো দোয়া, তাসবিহ বা কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। নিজের ভাষায় মনের আকুতিও জানানো যায়। সালাত ও জমজম: তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে (বা হারামের যেকোনো স্থানে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নাহ। এরপর জমজমের পানি পান করে দোয়া করা উত্তম।

তাওয়াফ চলাকালীন অজু ভেঙে গেলে বা উল্টো দিকে (ঘড়ির কাঁটার দিকে) ঘুরলে তাওয়াফ বাতিল হয়ে যায়। নফল তাওয়াফের প্রতিটি পদক্ষেপে সওয়াব অর্জিত হয় এবং এটি গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম সেরা মাধ্যম। অনেক আলেমের মতে, একবার তাওয়াফ করা একটি পূর্ণ নামাজের সমান সওয়াবের কাজ।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন