কৃষ্ণচূড়ায় আগুনরঙা হাসি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ণ
কৃষ্ণচূড়ায় আগুনরঙা হাসি

গ্রীষ্মের তীব্র দহনজ্বালা যখন জনজীবনকে ক্লান্ত করে তোলে, তখন প্রকৃতি যেন নিজের তুলিতে আঁকে এক অনন্য রঙের ছবি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এখন সেই ছবিরই জীবন্ত রূপে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুল যেন আগুনের মতো জ্বলছে, আর তাতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ মেঠোপথ।

কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে এগোলে চোখে পড়ে লাল ফুলের সারিবদ্ধ সৌন্দর্য। কলাপাড়া পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়া। বিশেষ করে আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মিত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ ইতোমধ্যেই পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে এক জনপ্রিয় ‘সেলফি স্পট’ এ পরিণত হয়েছে।

প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী থেকে শুরু করে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা। অনেকেই যাত্রাপথে থেমে গিয়ে ক্যামেরাবন্দি করছেন এই রঙিন মুহূর্ত। স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা স্মার্টফোনে ধারণ করা সেই দৃশ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’-এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন নয়ন জানান, এই সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

আনন্দের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে রয়েছে এক ধরনের শঙ্কাও। দর্শনার্থীরা বলছেন, আগের তুলনায় কৃষ্ণচূড়া গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। উদ্ভিদবিদদের মতে, লাল, হলুদ ও সাদা এই তিন রঙের মধ্যে সাদা কৃষ্ণচূড়া এখন সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য। মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক চঞ্চল সাহা বলেন, ‘গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়ার এই লাল রঙ যেন প্রকৃতির হাসি। আমাদের উচিত এই সৌন্দর্যকে বাঁচিয়ে রাখা।’

প্রকৃতির এই আগুনরঙা হাসি শুধু চোখ জুড়ায় না, মনেও জাগায় নতুন আশা। যথাযথ যত্ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন