মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: বিশ্বায়নের এই যুগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান মাধ্যম হলো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি, নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি, একাডেমিক বিবরণ ও গবেষণার তথ্যভাণ্ডার হিসেবে এটি কাজ করার কথা থাকলেও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)-এর ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব এবং নিয়মিত হালনাগাদ না হওয়ায় ডিজিটাল যুগে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট ও গবেষণাপত্রে শিক্ষকদের পদবি উল্লেখ করার জন্য ওয়েবসাইটের সহায়তা নিতে গিয়ে তাঁরা ভুল বা পুরোনো তথ্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। পদোন্নতি পাওয়ার পরও অনেক শিক্ষকের পদবি পরিবর্তন করা হয়নি, যা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি শিক্ষকরা কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন, তার বিস্তারিত তথ্য না থাকায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সম্ভাব্য সুপারভাইজার খুঁজে পেতে জটিলতায় পড়ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর ও মেডিকেল স্বাস্থ্যশাখাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখার ওয়েবপেজগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ছাত্রকল্যাণ দপ্তর থেকে নিয়মিত নোটিশ প্রকাশ করা হলেও ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞপ্তির দেখা মেলে না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় আন্তর্জাতিক র্যাংকিং সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও পিছিয়ে পড়ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু কালাম বলেন, “কোনো আপডেট তথ্য বা প্রয়োজনীয় লিংক না থাকায় ওয়েবসাইটটি অকার্যকর হয়ে আছে। বর্তমান বিশ্বে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট, অথচ আমাদের এখানে চরম অবহেলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট চাই।”
এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তাঁরা কাজ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন তথ্য দিলে আমরা সাথে সাথে আপলোড করি। শিক্ষকদের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে একটি কোম্পানির সাথে চুক্তি হলেও তারা কাজ সম্পন্ন করেনি, এখন নতুন করে ওয়েবসাইট তৈরির চেষ্টা চলছে।” এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ.আই.এল/সকালবেলা