আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (৯ মে) ব্রিগেড ময়দানে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এই অভিষেক অনুষ্ঠানকে ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠেছে নৈতিকতা ও আদর্শের লড়াই।
শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ২০১৬ সালের ‘নারদা স্টিং অপারেশন’-এর ভিডিও। সেই সময় এই ভিডিওটিকে অস্ত্র বানিয়ে শুভেন্দুকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বলে কড়া আক্রমণ করেছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। আজ সেই শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে মোদির অভিনন্দন জানানোকে ‘রাজনীতির পরিহাস’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বিজেপির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে সেই বিতর্কিত ভিডিওটি রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তিনি একে বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “যে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একসময় বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগে সরব ছিল, আজ তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে উৎসবে মেতেছে তারা। সিবিআই বা ইডির অভিযানের পর যারা বিজেপিতে যোগ দেন, তাঁদের সব পাপ কি জাদুকরীভাবে মুছে যায়?” রাউত আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার উদাহরণ টেনে বলেন, এটি বিরোধী নেতাদের ভয় দেখিয়ে দলে টানার একটি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলে নেতাদের অতীত দুর্নীতির রেকর্ড মুছে দিয়ে তাঁদের ‘পবিত্র’ করার এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, তারা কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতেই শুভেন্দুকে বেছে নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিরোধীরা যখন তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হবে তাঁর প্রধান কাজ।