ল্যাটিন আমেরিকা থেকে ছড়িয়ে পড়া ‘হান্টাভাইরাস’ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহ থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসটি মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনা থেকে আসা একটি প্রমোদতরিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যুর পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। এছাড়া ইঁদুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
আর্জেন্টিনায় গত এক বছরে এই ভাইরাসে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে ১০১ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি জাহাজে ভ্রমণের পর তিন যাত্রীর মৃত্যু এবং আরও চারজন অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ওই জাহাজে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, যারা ইতিমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ক্ষমতা কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় অনেক কম।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হান্টাভাইরাস দুটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করে: ১. এইচপিএস (HPS): শুরুতে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশি ব্যথা। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ২. এইচএফআরএস (HFRS): এটি কিডনিকে আক্রান্ত করে। এর ফলে রক্তচাপ কমে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকল হতে পারে।
হান্টাভাইরাস সংক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী অক্সিজেন থেরাপি বা ভেন্টিলেশনের মতো সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভাইরাসটি থেকে বাঁচতে সিডিসি বাড়ি বা কর্মস্থলে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ইঁদুরের মল পরিষ্কারের সময় মাস্ক ও সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহার করা জরুরি।
জান্নাত/সকালবেলা