বিরলে পেঁয়াজ বীজ চাষে সফল মিলন: ৬ একর জমিতে সাদা ফুলের সমারোহ

বিরলে পেঁয়াজ বীজ চাষে সফল মিলন: ৬ একর জমিতে সাদা ফুলের সমারোহ

তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় পেঁয়াজ বীজের বাণিজ্যিক চাষে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছেন তরুণ কৃষক মিলন ইসলাম। এক বা দুই বিঘা নয়, তিনি একাই প্রায় ৬ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মিলন মনে করছেন, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি নিরসনে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভবান হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।

বিরল উপজেলার ধামইর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে মিলনের সেই দিগন্তজোড়া পেঁয়াজ খেত এখন দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। দুই থেকে আড়াই ফুট লম্বা সবুজ কাণ্ডের মাথায় গোলাকৃতির সাদা ফুল বাতাসে দুলছে। বিগত তিন বছর ধরে মিলন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্যের বীজ উৎপাদন করছেন এবং এতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তার এই প্রকল্পে স্থানীয় প্রায় ১৫ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। লাভজনক এই চাষ পদ্ধতি দেখতে এবং পরামর্শ নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক কৃষক মিলনের কাছে আসছেন।

কৃষক মিলন ইসলাম সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদেশ থেকে পেঁয়াজ ও বীজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, কৃষকরা সঠিক দাম না পেলে ভবিষ্যতে চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশেই উন্নত মানের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে বিরল উপজেলাতেই প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বিরলের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ এবং পেঁয়াজ বীজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের পাশাপাশি প্রতি বছর দেশ থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বীজ আমদানি করতে হয়। মিলনের মতো উদ্যোক্তারা বেশি করে এগিয়ে এলে পেঁয়াজ সংকট নিরসনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় কৃষি বিভাগ চাষিদের সব ধরনের কারিগরি ও মাঠ পর্যায়ের সহযোগিতা প্রদান করছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন