ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরিদপুরের সালথায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাহিদ শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু নির্যাতনই নয়, মাদকাসক্ত ওই ব্যক্তি তার সন্তানের পড়াশোনার বইখাতাও পুড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
অভিযুক্ত সাহিদ শেখ উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামের মো. আকুব্বর শেখের ছেলে। স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাহিদ শেখ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। তিনি মাদকসহ একাধিকবার আটক হয়ে জেল খেটেছেন, তবুও তার মাদক ব্যবসা চলমান রয়েছে। সাহিদের ছেলে আশিক শেখ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবা মাদক ব্যবসায়ী হওয়ায় বন্ধু মহলে মুখ দেখাতে পারে না শিক্ষার্থী ছেলেটি। যে কারণে আশিক তার বাবাকে মাদক ব্যবসা বাদ দিতে চাপ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার বিকেলে সাহিদ তার ছেলে ও স্ত্রীকে ঘরের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন এবং এ সময় আশিকের সব বইখাতাও পুড়িয়ে ফেলেন।
ঘটনার পর থেকে আশিক ও তার মা পার্শ্ববর্তী গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে মাদক ব্যবসায়ী বাবা সাহিদের বিচার চেয়ে সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছেলে আশিক।
ভুক্তভোগী স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, তার স্বামী একজন মাদক ব্যবসায়ী ও নিয়মিত মাদক সেবন করেন। তার এই মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রায়ই তাকে ও স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে মারধর করা হয়। গত বুধবার মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাদের খুঁটিতে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তার ছোট শিশুসন্তান জুনায়েদকে আটকে রেখে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত তার ছোট শিশুকে ফেরত এবং স্বামীর বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কে এম মারুফ হাসান রাসেল জানান, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে মারধরের ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ী সাহিদ শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ