গলাচিপায় সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীর অভিযোগ

গলাচিপায় সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীর অভিযোগ

আবু নাইম হোসাইন, গলাচিপা (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক পরীক্ষার্থীকে বিয়ের পর ডিভোর্স দিয়ে পুনরায় উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম আদূরী আক্তার (১৯)। তিনি উপজেলার নতুন জামে মসজিদ সংলগ্ন আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

মামলার আরজি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমান গ্রাম পুলিশ মোঃ রিয়াজ মল্লিকের সাথে আদূরীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক চাপে মাত্র আড়াই মাস পর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আদূরীর অভিযোগ, ডিভোর্সের পর রিয়াজ তাকে পুনরায় বিরক্ত করা শুরু করে এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।

আদুরী জানান, একদিন বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে রিয়াজ তাঁর ঘরে প্রবেশ করে। আদুরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে রিয়াজ তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন, জুতা এবং গ্রাম পুলিশের পোশাক ফেলে পালিয়ে যায়।

পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত এই মামলায় (মামলা নম্বর ২১) প্রধান আসামি করা হয়েছে গ্রাম পুলিশ মোঃ রিয়াজ মল্লিককে। অন্য আসামিরা হলেন—রিয়াজের ভাই মোঃ রাসেল মল্লিক, শাহিন বয়াতি এবং ৩নং গলাচিপা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মোঃ আবু জাফর রানা

আদূরীর বাবা কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, স্থানীয় সালিশিতে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন:

"সালিশিতে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি তা মানিনি। আমার মেয়ের জীবন তছনছ করা হয়েছে। আমি কোনো টাকা চাই না, আমি আইনের কাছে বিচার চাই।"

এদিকে, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের একটি অঙ্গীকারনামা থেকে জানা যায়, রিয়াজের ফেলে যাওয়া মোবাইল ও পোশাক উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রাম পুলিশের পোশাকটি মেয়ের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

৩নং গলাচিপা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ আবু জাফর রানা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।"

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান জানান:

“আদালত থেকে আমরা আদেশের কপি পেয়েছি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ রিয়াজ মল্লিক বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক ও আইনি এই টানাপোড়েনে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আদুরী।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন