রাজশাহীতে নিষিদ্ধ দলকে সক্রিয় করার অভিযোগ: আলোচনার কেন্দ্রে ‘হুন্ডি মুকুল’

রাজশাহীতে নিষিদ্ধ দলকে সক্রিয় করার অভিযোগ: আলোচনার কেন্দ্রে ‘হুন্ডি মুকুল’

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী বা অর্থ জোগানদাতারা জামিনে মুক্তি পেলে তাঁদের অন্য মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি। তবে এই নির্দেশনার মধ্যেই রাজশাহীতে প্রকাশ্যে চলাফেরা ও দল গোছানোর অভিযোগ উঠেছে মোখলেসুর রহমান মুকুল ওরফে ‘হুন্ডি মুকুল’-এর বিরুদ্ধে।

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত সংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার বা অর্থ জোগান দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাঁদের জামিনের পরপরই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে।

কে এই ‘হুন্ডি মুকুল’? 

আলোচিত মোখলেসুর রহমান মুকুল রাজশাহী নগরীর কাঁঠালবাড়িয়া গোবিন্দপুর মহল্লার বাসিন্দা। এলাকাবাসীর অভিযোগ ও প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী:

  • টাকা পাচার: ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের তালিকায় রাজশাহীর ‘মূল হোতা’ হিসেবে তাঁর নাম ২ নম্বরে ছিল।

  • বিপুল সম্পদ: এক সময় মুদিদোকান চালানো মুকুল এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন।

  • ঠিকাদারি ও বালুমহাল: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ এবং রাজনৈতিক প্রভাবে গোদাগাড়ীর বালুমহাল ইজারা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক মামলায় গত বছর ৬ আগস্ট তাঁকে কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে গোপনে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। এমনকি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বালুমহালের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার মতো দুঃসাহসিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরহাদ আলী জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডিআইজির কড়া নির্দেশনার পরও ‘হুন্ডি মুকুল’-এর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের এমন প্রকাশ্য তৎপরতা রাজশাহীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন