গাজীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতাল সিলগালা, কর্তৃপক্ষ পলাতক

গাজীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতাল সিলগালা, কর্তৃপক্ষ পলাতক

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তার ‘লাইফ কেয়ার হাসপাতাল’-এ ভুল চিকিৎসায় রুমা (২৫) নামে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

এই ঘটনার পর নবজাতককে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুমা উপজেলার উজিলাব গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী এবং হেরা পটকা গ্রামের আঃ রশিদ ও সালেহা দম্পতির মেয়ে।

স্বজনরা জানান, রোববার (৮ মার্চ) সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে রুমা ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পর রুমা সুস্থ ছিলেন বলে দাবি স্বজনদের। তবে সোমবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ স্বজনরা রুমাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।

অভিযোগ উঠেছে, রুমার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার অজুহাতে তাকে কৌশলে ঢাকায় পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে। কিন্তু ঢাকা নেওয়ার পথেই স্বজনরা বুঝতে পারেন রুমা আগেই মারা গেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দ্রুত গা ঢাকা দেন।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন:

“প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপারেশনের পর প্রসূতি যখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন, তখন হাসপাতালে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। মূলত যথাযথ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও চরম অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে। ইতিপূর্বেও এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহতের স্বামী মো. মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এখন পালিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ থাকলেও মায়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পলাতক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন