আমের মুকুলে সেজেছে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস: বাতাসে বসন্তের মিষ্টি সুবাস

আমের মুকুলে সেজেছে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস: বাতাসে বসন্তের মিষ্টি সুবাস

গোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের একটি আমগাছে থোকায় থোকায় আসা সোনালি মুকুল।

মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: শীতের শুষ্কতা পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন ঋতুরাজ বসন্তের দাপট। ঋতুর এই পালাবদলে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুলের সুবাসিত বার্তা। হলুদে-সবুজে সেই মুকুলের অপরূপ সাজে এখন সেজে উঠেছে পঞ্চান্ন একরের গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, হল চত্বর থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের চারপাশ—সবখানেই আমগাছগুলো মুকুলের সজীবতায় ভরে উঠেছে। চিকন ডালপালা মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সোনালি রোদের আভা আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সেই মুকুল যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বসন্তের মোহনীয় আমেজ। বাতাসে ভাসছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস, আর মৌমাছির গুনগুন ধ্বনি ও পাখির কলতানে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ।

ক্যাম্পাসের এই প্রাণবন্ত প্রাকৃতিক আবহ শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্মল প্রশান্তি। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিবা তাসফিয়া বলেন, "বসন্তের এই নবজাগরণ আমাদের মনে আশা ও নতুন করে পথচলার প্রেরণা জোগায়।" পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল আরেফিন জানান, পড়ন্ত বিকেলে ক্যাম্পাসের ক্যালিফোর্নিয়া রোডে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে একটু হেঁটে চলা নিমিষেই মনের সব বিষণ্নতা মিটিয়ে দেয়।

ক্যাম্পাসজুড়ে মুকুলের এমন সমারোহের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাহমিনা বেগম জানান, এ বছর অনুকূল পরিবেশের কারণে মুকুল তুলনামূলক বেশি এসেছে। তিনি বলেন, "এবার শীতের শেষে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ঘন কুয়াশা কম থাকায় মুকুল আসার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়নি। তবে এই মুকুল টিকিয়ে রেখে ভালো ফলন পেতে হলে এখন সঠিক পরিচর্যা ও সেচ জরুরি।" তিনি ফুল ফোটার পর পরাগায়ন নিশ্চিত করতে কীটনাশক প্রয়োগে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন।

গাছে গাছে আমের এই আগাম মুকুল যেন ক্যাম্পাসের ব্যস্ত শিক্ষা জীবনে নিয়ে এসেছে এক টুকরো উৎসবের রঙ। শিক্ষার্থীদের পদচারণা আর মুকুলের সুবাসে গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস এখন এক অলিখিত স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন