সুন্দরবননির্ভর ১০ সহস্রাধিক জেলে পেশা হারানোর শঙ্কায়

সুন্দরবননির্ভর ১০ সহস্রাধিক জেলে পেশা হারানোর শঙ্কায়

নাজমুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট): বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ১০ হাজারেরও বেশি জেলে বর্তমানে চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা অভয়ারণ্য ঘোষণা, দীর্ঘমেয়াদী মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা এবং জলদস্যুদের উৎপাতের কারণে এই সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের প্রায় ৮৫ শতাংশ বনভূমিকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে জেলেরা মাত্র ১৫ শতাংশ এলাকায় মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি বছরে প্রায় ছয় মাস সুন্দরবনে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় জেলেদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে সীমিত এলাকা, অন্যদিকে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা।

শরণখোলার জেলে মো. ছগির হাওলাদার বলেন, "আমাদের বাপ-দাদার পেশা ছিল সুন্দরবনে মাছ ধরা। এখন নিষেধাজ্ঞা আর জলদস্যুর ভয়ে ঠিকমতো বনে যেতেই পারি না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে।" আরেক জেলে মিজান জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক জেলে ঝুঁকি নিয়ে বনে ঢুকছেন, যা তাদের আইনি জটিলতায় ফেলছে।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হালিম খান বলেন, "সুন্দরবন রক্ষা করা জরুরি, তবে অভয়ারণ্য ঘোষণার বিষয়টি বাস্তবতা বিবেচনায় এনে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নইলে জেলেরা চিরতরে এই পেশা হারাবে।" জেলেদের দাবি— অভয়ারণ্য এলাকা কমিয়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ করা, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তিন মাসে সীমিত করা এবং জলদস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির শরণখোলা রেঞ্জের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, হাজার হাজার মানুষ জীবিকা হারালে একদিকে মানবিক সংকট তৈরি হবে, অন্যদিকে জীবিকার তাগিদে বনজ সম্পদের ওপর অবৈধ চাপ বাড়বে, যা পরিবেশের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে বন বিভাগ তাদের অবস্থানে অনড়। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বনের ৮৫ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্যের আওতায় থাকায় মাত্র ১৫ শতাংশ এলাকায় মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন