চায়ের রাজ্যেও আকাশচুম্বী লেবুর দাম: শ্রীমঙ্গলে হালি ২০০ টাকা

চায়ের রাজ্যেও আকাশচুম্বী লেবুর দাম: শ্রীমঙ্গলে হালি ২০০ টাকা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা লেবু ও আনারসের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। এখানকার কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিদেশেও রপ্তানি হয়। অথচ চলতি মৌসুমে সেই লেবুর খনি শ্রীমঙ্গলেই আকস্মিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে তা ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু হালিপ্রতি ২০০ টাকা, মাঝারি ১৫০–১৭৫ টাকা এবং ছোট লেবু ৮০–১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ অত্যন্ত কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে বসে থাকলেও আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষ লেবু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকেই প্রতিটি লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন খরচ যোগ করে সামান্য লাভে বিক্রি করতে গেলেও হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকছে। বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, “আড়তে গিয়ে পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মাত্র এক-চতুর্থাংশ।”

লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন অস্বাভাবিক কমে গেছে। ভরা মৌসুমে যে গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হতো, এখন সেখানে মাত্র ১০-১৫টি লেবু পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেতা মাসুম আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, “শ্রীমঙ্গল লেবুর জন্য বিখ্যাত, অথচ এখানকার মানুষই এখন লেবু কিনতে পারছেন না। রমজানে ইফতারে লেবুর শরবতের বিকল্প নেই, কিন্তু এই দামে লেবু কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব।”

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন