ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ চা-বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ, পাথারিয়া ও মোকাম চা বাগানের ৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে চা-বোর্ড কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ জানুয়ারির একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মাস পর এই মামলার নির্দেশ আসায় বাগানগুলোতে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু হস্তক্ষেপ করেছেন এবং আপাতত মামলা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার্তা দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি অডিট টিমের সদস্যদের নারী শ্রমিকদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য এবং বকেয়া মজুরির দাবিতে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক অডিট টিম ও বাগান ব্যবস্থাপককে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে তৎকালীন ইউএনও গালিব চৌধুরী, থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অডিট টিমের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম নিজ দলের অসদাচরণের জন্য ক্ষমা চান এবং শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়। তবে ঘটনার এক মাস তিন দিন পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চা বোর্ডের সচিব মো. মমিনুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সহকারী ব্যবস্থাপক রাজ নারায়ণ পালসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার জন্য বাগান ব্যবস্থাপককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই নির্দেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানান। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, চা বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা বাগান ধ্বংসের নীল নকশা তৈরি করছেন এবং বকেয়া বেতন না দিয়ে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছেন। তারা এই মামলাকে 'অমানবিক ও ষড়যন্ত্রমূলক' বলে দাবি করেন। নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক এমদাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বোর্ড থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে মামলার নির্দেশ দেওয়া হলেও সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু এলাকায় ফেরার আগ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই উস্কানি দিচ্ছে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এমপি মিঠু তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে বাগান ম্যানেজারকে মামলা দায়ের না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি এলাকায় ফিরে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মীমাংসা হওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে নতুন করে মামলার নির্দেশনাকে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ