জামায়াত জোট কতদূর যাবে

প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ণ
জামায়াত জোট কতদূর যাবে

নির্বাচন কেন্দ্রিক ১১ দলীয় জোট গঠিত হলেও আপাতত তা ভাঙছে না। সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্য সংসদের ভেতরে ও রাজপথে জোটবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জামায়াত ও এনসিপিসহ জোটের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা একসাথেই এগোবেন।

আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে হওয়ার অধ্যাদেশ জারি হওয়ায় জোটের শরিক দলগুলো এককভাবে প্রার্থী ঠিক করতে শুরু করেছে।

  • এনসিপির তৎপরতা: এনসিপি ইতোমধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিবের নাম উল্লেখযোগ্য।

  • জামায়াতের অবস্থান: জামায়াতও অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঠিক করছে। দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং উত্তরে মহানগর আমির মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিনের নাম আলোচনায় আছে।

  • মনোনয়ন দ্বন্দ্ব: দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ ও সাদিক কায়েমকে নিয়ে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহাস চললেও নীতিনির্ধারকরা একে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঐতিহ্য থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে সমঝোতা হতে পারে।

জোটের নেতারা মনে করছেন, সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর বিকল্প নেই। বিএনপি সরকার যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জুলাই গণভোটের রায় অবজ্ঞা করে নিজেদের মতো সংবিধান সংশোধন করতে চায়, তবে ১১ দল রাজপথের আন্দোলনে যাবে।

গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবিতে জোটবদ্ধ আন্দোলন চলবে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করা হবে। ২. সংসদীয় কমিটি: সরকার সংবিধান সংস্কার কমিটিতে নাম চাইলেও বিরোধী জোট এখনো কোনো নাম দেয়নি। তারা সরকারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। ৩. তত্ত্বাবধায়ক সরকার: জোটের চূড়ান্ত দাবি হলো নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সরকার এই দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

জামায়াত ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে একক ঘোষণার কৌশল থাকলেও জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধ লড়াইয়েরই সম্ভাবনা বেশি।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন