অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
কুড়িগ্রামের চিলমারী বন্দর এলাকায় ভাঙনকবলিত তীর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

উত্তরবঙ্গের দুঃখ হিসেবে পরিচিত তিস্তা নদীর স্থায়ী নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই তীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল রক্ষায় গৃহীত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে তিস্তা পাইলট প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার ভয়াবহ নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এত বড় একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাদের বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস অতিক্রম করেছে। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন এবং কিছুটা সময় দিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনারা তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের শুভ সূচনা দেখতে পাবেন।"

কুড়িগ্রামের চিলমারীসহ অন্যান্য উপজেলার নদীভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "সরকার কুড়িগ্রাম জেলায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং টেকসই উপায়ে নদীভাঙন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে দুটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রজেক্ট দুটির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যেন দ্রুত বাস্তবায়ন কাজ শেষ করা যায়।"

তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন, কোনো সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মন্দির কিংবা হাট-বাজার যেন ভাঙনের মুখে বিলীন না হয়ে যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধের কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

ইতিমধ্যেই কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি আশঙ্কাজনক ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আরও যেসকল পয়েন্টে প্রতিরোধমূলক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও তৎক্ষণাৎ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন