বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ!

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ণ
বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ!

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর সম্পদ নিয়ে অবাস্তব ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে। এই অপরাধে তাঁর সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হবে কি না—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই অভিযোগ ও আইনি প্রশ্ন তোলেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে নিজের হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন হাতিয়ার এমপি হান্নান মাসউদ। মূলত ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন জমা দিতে সুবিধা হবে—এমন খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি হলফনামায় সম্পদের এই গরমিল করেছিলেন বলে জানান রাশেদ খান।

রাশেদ খান লেখেন, “তিনি (হান্নান মাসউদ) টকশোতে দাবি করেছেন যে বাস্তবে তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদই নাই। অথচ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি সম্পদের বিবরণী দেখিয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, তাঁর দেওয়া হলফনামার তথ্যটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা ছিল।”

মিথ্যা হলফনামার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনি কঠোরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর ২০২৫ সালের ১১ আগস্টের একটি নীতিগত বক্তব্য কোট (উদ্ধৃত) করেন।

তৎকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা বা কাল্পনিক তথ্য দিলে ভোটের পরেও তা তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তদন্তে সত্যতা মিললে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হবে, এমনকি চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদও। এটি সুনির্দিষ্টভাবে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) বিধানে কঠোরভাবে সন্নিবেশ করা হয়েছে।”

রাশেদ খান তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও বলেন, “আমি হান্নান মাসউদ সম্পর্কে অতীতে যেসব তথ্য জনসমক্ষে এনেছিলাম, তা যে শতভাগ সত্য ছিল, তা এখন হান্নান মাসউদের নিজের বক্তব্য এবং হলফনামা বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।”

এমপি হান্নান মাসউদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’ মার্কা জীবনযাপনের দাবির সমালোচনা করে রাশেদ খান ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, “কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছিলেন—তিনি নাকি তাঁর সহধর্মিণীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি পরিশোধ করেছেন ‘মাহবুব ভাই’ নামক একজনের কাছ থেকে ধার করে! আর নতুন বাড়ি বানানোর জন্য ইট কিনেছেন ঠিকই, কিন্তু টাকার অভাবে ইটের দোকানের ৩ লাখ টাকা এখনও শোধ করতে পারছেন না! একজন বর্তমান সংসদ সদস্য এতো গরিব, এতো সৎ! আহারে।”

ফেসবুক স্ট্যাটাসের একদম শেষভাগে এসে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাশেদ খান বলেন, “যদি তিনি আসলেই এতোটা নিঃস্ব ও দেনাগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে হলফনামার কাগজে কলমে এই ‘অপূর্ব সততা’ কেন ফুটিয়ে তুললেন না? কেন সেখানে কাল্পনিক সম্পদের তথ্য দিতে গেলেন?” এই আইনি মারপ্যাঁচে হাতিয়ার এই সংসদ সদস্যের পদ শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন