বাজেট নিয়ে জিএম কাদেরের রাজনৈতিক খতিয়ান
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সংসদীয় রাজনীতি, জাতীয় দলসমূহ ও সরকারি নীতি খতিয়ান’ এবং ‘পলিটিক্যাল পার্টি অ্যানালাইসিস, ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স ও ফিসকাল পলিসি মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে জাতীয় পার্টির এই বাজেট প্রতিক্রিয়া ও ভেতরের সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
জাতীয় পার্টির অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্স খতিয়ান অনুযায়ী, আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (DRU) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জিএম কাদের বলেন, “অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য এবং বাজেটে বর্ণিত আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের সমর্থক এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার বহাল না করা পর্যন্ত দেশে প্রকৃত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা চরম কঠিন হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্থাৎ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের আইনি নিরাপত্তা যদি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সেই ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, যা জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হবে।
বাজেট পর্যালোচনা মেথড অনুযায়ী জিএম কাদের বলেন, “আমরা মনে করি দেশ বর্তমানে এক গভীর ও অভূতপূর্ব সংকটকাল অতিক্রম করছে। এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সুনির্দিষ্ট মাত্রা এবং গভীরতা এখন পর্যন্ত সরকারের নীতিনির্ধারকরা সঠিকভাবে পরিমাপ বা ধারণা করতে পারছেন না। তবে সংকটটি যে অত্যন্ত বিশাল, এ বিষয়ে কারো মনে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়।”
এই জটিল কন্ডিশন থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান দল-মত নির্বিশেষে এক মেগা ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর মতে, অতীত প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের সব নাগরিককে একতাবদ্ধ করতে হবে। দেশবাসীর সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাই কেবল এই সংকট থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি এবং অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পারে। এটি যদি বাস্তবে সম্ভব হয়, তবেই সম্ভবত প্রস্তাবিত এই বাজেটকে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ হিসাবে গণ্য করা আইনিভাবে যৌক্তিক হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
জান্নাত সকালবেলা
|