যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্ব রাজনীতির দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য এক নতুন মেগা গেমপ্ল্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই যুগান্তকারী শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খবরটিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘কূটনৈতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক লিয়াজোঁ ও বহুপাক্ষিক পলিসি খতিয়ান’ এবং ‘ফরেন পলিসি ট্র্যাকিং, গ্লোবাল পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ও ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে বাংলাদেশের এই স্বাগত বিবৃতি ও চুক্তির সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক উইংয়ের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এক বিশেষ বিবৃতিতে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সবসময়ই যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপক্ষে এবং ক্রমাগত সংলাপ ও সুদূরপ্রসারী কূটনীতির মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংঘাত কমিয়ে আনার ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেথড অনুযায়ী, এই ইতিবাচক এবং ঐতিহাসিক চুক্তি রূপায়ণে যেসকল বিশ্বনেতা, মধ্যস্থতাকারী পক্ষ ও সহায়তাকারীরা অবদান রেখেছেন, তাদের নিরলস প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশ উচ্চ প্রশংসার খতিয়ানে রাখছে। একই সাথে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে আশা প্রকাশ করে যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বাস্তব ক্ষেত্রে শতভাগ কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কন্ডিশন বজায় রাখবে।
প্রকাশিত কূটনৈতিক খতিয়ানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্বাভাবিক হবে এবং লোহিত সাগরসহ প্রধান প্রধান সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ কন্ডিশনে ফিরবে।
বাংলাদেশ এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চের সব পক্ষকে আগামীতেও যেকোনো অসামান্য বা অমীমাংসিত সমস্যা আইনি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মোকাবেলা করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে। একই সাথে বাংলাদেশ আঞ্চলিক শান্তি পুনরুদ্ধার, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) সচল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। উল্লেখ্য, এই মেগা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আইনি মেথডলজি সম্পন্ন হবে।
জান্নাত সকালবেলা
|