ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলা, আগুনে পুড়ল ঐতিহাসিক মঠ ও নিহত ৯

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ণ
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলা, আগুনে পুড়ল ঐতিহাসিক মঠ ও নিহত ৯
ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই হামলায় ইউক্রেনের হাজার বছরের পুরোনো এবং ইউক্রেনীয় আধ্যাত্মিকতার প্রতীক ঐতিহাসিক ‘কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা’ মঠে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেনকো জানান, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং ১০৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট্রাল কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠটি রাশিয়ার সরাসরি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘রুশ হামলায় একাদশ শতাব্দীর ডরমিশন ক্যাথেড্রালে আগুন ধরে গেছে। খ্রিস্টান সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাশিয়ার এটি অন্যতম বড় অপরাধ।’

কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় বেশ কিছু বহুতল আবাসিক ভবন ও বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। হামলায় রাজধানীতে ৪ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনে ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানী কিয়েভের পাশাপাশি ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার দ্বিতীয় দফা হামলায় চারজন জরুরি সেবা কর্মী এবং একজন পৌর কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া সুমি অঞ্চলেও একটি শিশুসহ তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে এই ভয়াবহ হামলার জেরে ন্যাটোর সদস্য দেশ প্রতিবেশী পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে, যদিও পরে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। মস্কোর দক্ষিণের শিল্পনগরী তুলা-তে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় এক বছরের এক শিশুসহ তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। এছাড়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে নেওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপের জ্বালানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনালাপের পরই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটল।

সূত্র: রয়টার্স/ আর এইচ

মন্তব্য করুন