ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষার প্রসার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর কালজয়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই মরণোত্তর পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
বিএনপি নেতাদের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে নারী উন্নয়নের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, খালেদা জিয়া তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পূর্ণতা দিয়েছেন। তাঁর শাসনামলে প্রবর্তিত ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ বা মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করার বিষয়টি ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় নারী শিক্ষার প্রসারে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের ফলে গ্রাম পর্যায়ে মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে যায় এবং বাল্যবিয়ে রোধে এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী কোটা প্রবর্তন করেন, যা নারী শিক্ষাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০-এ উন্নীত করেন এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় এসিড সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও যৌতুকবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন তিনি। নারীদের উৎসাহিত করতে ১৯৯৫ সালে তিনি ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রবর্তন করেন, যা আজও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই পুরস্কার প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন নারী জাগরণের এক ধ্রুবতারা। তাঁর দূরদর্শী উপবৃত্তি কর্মসূচি ও অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণেই আজ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে শিক্ষিত নারী ও শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেছে। একইভাবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মন্তব্য করেন, পুলিশ বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আজকের নারীদের যে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান, তার মূল কারিগর ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সঠিক মূল্যায়ন করা হলো বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ