আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংকট এড়াতে আজ রোববার (৮ মার্চ) থেকে সারা দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, রেশনিং পদ্ধতি সঠিকভাবে কার্যকর করতে আজ থেকে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) নামানো হবে। কোনো পাম্প নির্ধারিত সীমার বেশি তেল বিক্রি করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার আশ্বস্ত করেছে যে তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি জ্বালানি তেলের জাহাজ (ভেসেল) দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই রেশনিং ব্যবস্থা আপাতত বলবৎ থাকবে।

রেশনিং পদ্ধতি চালুর পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক গ্রাহক বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও সরকার এটিকে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করছে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেয়া যাবে ১০ লিটার তেল।

এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রল বা অকটেন। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।


মন্তব্য করুন