সৌদি আরবে কারাগারে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে সাড়ে সাত হাজারের মতো বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রবাসী নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তাঁকে উপযুক্ত আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে বাঁচানোর এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ। সকাল ৮টার পর শাহেদ আহম্মেদের নিথর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দরেই নিহতের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীর হাতে মরদেহ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে ঢাকার নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া ভাষায় কথা বলেছে বাংলাদেশ। একই সাথে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। রায়ের অফিশিয়াল কপি হাতে পাওয়া গেলে মূলত কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।
বিদেশে কর্মরত ও গমন ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কঠোর আইনকানুন ভালোভাবে জেনে-বুঝে নেওয়া উচিত। আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলো প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা নিরসনে সার্বক্ষণিক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”
রিয়াদ হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের সমন্বিত ও দ্রুততম উদ্যোগে মরদেহটি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নিহত শাহেদ আহম্মেদ বগুড়ার শাজাহানপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাঁর দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত প্রবাসীদের মধ্যে ১১তম মরদেহ হিসেবে শাহেদের নিথর দেহ দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলো।
শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং মরদেহটি বিনামূল্যে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সৌদি আরবে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। বিশাল এই কর্মীবাহিনীর কারণে দেশটিতে যুদ্ধাবস্থা বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি ও আশঙ্কা থেকে যায়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার চায় না ভবিষ্যতে আর কোনো অন্নসন্ধানী বাংলাদেশি নাগরিককে এভাবে ভিনদেশে প্রাণ হারাতে হোক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সব ধরনের যুদ্ধ ও ধ্বংসলীলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান এবং কোনো দেশের নাগরিকই যেন এমন নৃশংস হামলার শিকার না হন, সে জন্য আন্তর্জাতিক শান্তি কামনা করেন।
একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সংঘাতের কারণে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং পুনঃনবায়নের বিষয়ে সৌদি সরকারের সাথে জোর কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলেও নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।