মণিরামপুরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে রিপোর্টার্স ক্লাবের ক্ষোভ
আব্দুল্লাহ আল মামুন : যশোরের মণিরামপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সম্মানহানি এবং মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে সংযত আচরণ ও জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সত্যের অনুসন্ধানে দেশব্যাপী তীব্র মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার চাওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।
রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দের মূল অভিযোগ, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক রাফসান জানি ও তাঁর শ্যালিকা সামিয়া আফরোজকে ঘিরে উত্থাপিত পূর্বের একটি লোমহর্ষক অভিযোগ, শারীরিক নির্যাতন ও মামলাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে জলঘোলা করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অতীতে অসহায় অবস্থায় সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সার্বিক সহযোগিতা ও আইনি বিচার চাওয়া সেই শ্যালিকা সামিয়া আফরোজ এখন পারিবারিক সমঝোতার দোহাই দিয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন তুলছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদাহানির স্পষ্ট সামিল।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জোর দাবি জানান, সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর ঘটনায় অতীতে যেসব গুরুতর অভিযোগ, প্রত্যক্ষ বক্তব্য, অডিও-ভিডিও এবং অকাট্য তথ্য-প্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সঠিক আইনগত মূল্যায়ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সুচতুর পারিবারিক সমঝোতা বা বিচারাধীন মামলার বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যদি পূর্বের জমা দেওয়া সত্য তথ্য-প্রমাণকে ‘মিথ্যা’ প্রমাণের অপচেষ্টা চালাই, তবে তা আইনগতভাবেই আদালতের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত।
তাঁদের মতে, কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা মামলার সত্যতা নিরূপণের একচ্ছত্র দায়িত্ব বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সাংবাদিকরা যখন অসহায় নারীর আকুতি শুনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর বক্তব্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার সঠিক প্রতিকার চাওয়া হবে।
মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় তাঁরা চিরকাল ঐক্যবদ্ধ। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দ্রুত ক্ষমা না চাইলে সংগঠনের ব্যানারে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশব্যাপী স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন এবং উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, বর্বরোচিত এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও সমঝোতার নাটক নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক সমাজ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী এই সামিয়া আফরোজ বিগত প্রায় ৮ মাস আগে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে সাইবার হয়রানির অভিযোগ এনে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও হাতিবান্ধা থানায় লিখিত আইনি সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
পরবর্তীতে চিকিৎসক রাফসান জানি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকার সুবাদে ভাড়া বাসায় সামিয়া আফরোজকে স্বামী-স্ত্রীর ভুয়া পরিচয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করেন। একপর্যায়ে মণিরামপুরের সাংবাদিকদের কাছে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সার্বিক সহযোগিতা চান সামিয়া এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মণিরামপুর থানায় একটি নিয়মিত এজাহার দায়ের করা হয়। ঘটনার সময় একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে এই নিগ্রহের চাঞ্চল্যকর কাহিনী প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যসূত্রে আরও জানা যায়, সামিয়া আফরোজ নিজে উপস্থিত হয়ে অসংখ প্রতারণার অডিও রেকর্ড, তাঁর নিজের মায়ের ধারণকৃত আবেগঘন ভিডিও জবানবন্দি, রাফসান জানির অন্যায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও এবং তাঁদের মধ্যকার একাধিক ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
সে সময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অপরাধী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে তাঁর চাকরিতে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। সে সময় সচেতন সমাজ ও সাধারণ মানুষ আইন প্রদেয় সংস্থাকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। তবে অতি সম্প্রতি বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষী ফেরানোর মাধ্যমে পারিবারিক সমঝোতার নাটক সাজিয়ে সামিয়া আফরোজ আদালত থেকে তাঁর দুলাভাইকে সাময়িক মামলা থেকে বাঁচিয়ে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা থেকে রেহাই পেয়েই অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কতিপয় মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব নিয়ে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে জালিয়াতি ও সত্য গোপন করে সমাজের চোখে বেশিদিন সাধু সাজা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি ও সামাজিকভাবে শেষ দেখে ছাড়বেন।