পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিধ্বংসী গ্রহাণু পারমাণবিক বোমায় ঠেকানোর চিন্তা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিধ্বংসী গ্রহাণু পারমাণবিক বোমায় ঠেকানোর চিন্তা
সূর্যকে প্রদক্ষিণরত পৃথিবীর দূরবর্তী ট্রোজান গ্রহাণুর ইলাস্ট্রেশন (বাম) ও নাসার ডার্ট মহাকাশযান থেকে তোলা গ্রহাণু ডাইমরফোস (ডান)।

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বড় আকারের ধ্বংসাত্মক গ্রহাণুর সঙ্গে গ্রহটির প্রলয়ঙ্করী সংঘর্ষ এড়াতে সবচেয়ে কার্যকর ও নিশ্চিত পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি করেছেন চীনের গবেষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, কোনো বিশাল গ্রহাণুর কাঠামোর ভেতরে ভেদকারী যন্ত্র বা ড্রিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরক পুঁতে বিস্ফোরণ ঘটানোই পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

অতীতে একাধিক মহাজাগতিক বস্তুর সরাসরি আঘাতে পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে এবং ডাইনোসরসহ বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বহুমাত্রিক বহু গ্রহাণু শনাক্ত করেছেন, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অতি কাছ দিয়ে অতিক্রম করছে। সমস্যা হলো, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা অনেক বৃহৎ গ্রহাণু আজও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে, যার ফলে কোনোটি আঘাত হানার আগে অত্যন্ত কম সময় (কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ) সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব হয়।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘ডার্ট’ (DART) মিশনের মতো পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোতে কাইনেটিক ইম্প্যাক্ট বা ধাক্কা দিয়ে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা সফল হলেও, কয়েক শ মিটার ব্যাসের বিশাল আকারের গ্রহাণুর ক্ষেত্রে এবং সময় কম থাকলে সেসব পদ্ধতি কাজ নাও করতে পারে।

‘চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকেল টেকনোলজির’ বিজ্ঞানীদের গবেষণা সাময়িকী ‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মহাকাশযান পাঠিয়ে গ্রহাণু পৃষ্ঠের অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরে একটি নিয়ন্ত্রিত গর্ত তৈরি করে সেখানে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীদের পরিচালিত কম্পিউটার সিমুলেশন অনুযায়ী:

  • বিস্ফোরণের মাত্রা: হিরোশিমাতে ব্যবহৃত বোমার চেয়ে ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটালে ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গোটা গ্রহাণুকে সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া সম্ভব।

  • গভীরের বিস্ফোরণের সুবিধা: গ্রহাণুর উপরিভাগের বদলে মাত্র ৩০ মিটার গভীরে বোমা পুঁতে বিস্ফোরণ ঘটালে, অগভীর বিস্ফোরণের চেয়ে ৩ গুণ বেশি বেগে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন ঘটে।

  • দূরত্ব পরিবর্তন: ১ কিলোমিটার ব্যাসের কোনো বৃহৎ গ্রহাণুর ২০ মিটার গভীরে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে প্রতি সেকেন্ডে সেটির পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেগ ৩০ সেন্টিমিটারের চেয়ে বেশি বাড়ানো সম্ভব।

মহাকাশবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর দিকে দ্রুত ধেয়ে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত গ্রহাণু থেকে মানবসভ্যতা রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতে যখন কোনো প্রকৌশলগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নকশা করা হবে, তখন এই গবেষণা ও কৌশলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

(সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট)

মন্তব্য করুন