দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হবেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হবেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে সরকার সবদিক দিয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশে পা রাখামাত্রই শেখ হাসিনাকে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হবে এবং স্বকীয় আইনি প্রক্রিয়ায় তার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাম্প্রতিক নানা কর্মকাণ্ড ও কূটনৈতিক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, “সরকার শুরু থেকেই পলাতক শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক টেবিলেও বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা ঠিক নয় বলেও নয়াদিল্লিকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান আরও যোগ করেন, “তিনি যদি স্বেচ্ছায় বা আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরতে চান, তবে আমরা প্রস্তুত। দেশে ফেরামাত্রই আইন অনুযায়ী তার ওপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করা হবে। অতঃপর একজন আসামি হিসেবে সংবিধান ও আদালত অনুযায়ী যা যা আইনি অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা হবে। বিচারের পর আদালত যে সাজাই নির্ধারণ করবেন—তা মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক কিংবা খালাস—সরকার সেই রায়কে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে মেনে নেবে।”

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার বিতর্কিত বক্তব্যের প্রচার নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেন উপদেষ্টা। তিনি মনে করিয়ে দেন, শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর বিজ্ঞ আদালতের দেওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে। ফলে কোনো গণমাধ্যম যদি আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কিংবা আগাম তার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেয়, তবে দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন